সুন্দরবনে জলবায়ু শিক্ষার প্রসার নিয়ে শিক্ষক দিবসে বিশেষ কর্মশালা
সুন্দরবনে জলবায়ু শিক্ষার প্রসার নিয়ে শিক্ষক দিবসে বিশেষ কর্মশালা
সুব্রত চক্রবর্তী: শঙ্খচিল : সুন্দরবন
বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী অঞ্চলে পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় গঠিত প্রায় ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ বাংলাদেশে ও বাকি অংশ ভারতে ,যা ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ইউনেস্কো দ্বারা বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান (World Heritage Site) হিসেবে স্বীকৃতি পায় ,তা হলো পৃথিবীর একমাত্র বৃহত্তম একক ম্যানগ্রোভ বনভূমি সুন্দরবন। যে সুন্দরবন বাঁচিয়ে রেখেছে কলকাতা তথা দেশের বেশ কিছু রাজ্যের অনেকাংশ মানুষের জীবন জীবিকা । যে সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে প্রকৃতির এক নিবিড় জীববৈচিত্র্যের বাস্তুতন্ত্র ।যে সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন শিল্প দেখেছে আশার আলো। যে সুন্দরবন নানান প্রাকৃতিক বিপর্যয় বিপর্যস্ত হয়েও ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে নগর সভ্যতাকে রক্ষা করার প্রহরী হিসেবে ।যে কারণে সুন্দরবনকে আধুনিক নগর সভ্যতার ফুসফুস বলা হয়। সেই সুন্দরবন আজ বিপন্ন।
বিশ্ব উষ্ণায়নের হাত ধরে হু হু করে বাড়ছে সমুদ্রের জল স্তর। শুধু তাই নয় বাড়ছে জলের লবণের মাত্রাও। মাত্র অতিরিক্ত লবণের কারণে নোনা সহনশীল উপকূলবর্তী সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছ হয়েও হারিয়ে যাচ্ছে সুন্দরবনের বুক থেকে। ভেসে যাচ্ছে সুন্দরবনের প্রান্তিক নদী উপকূলবর্তী এলাকার মানুষদের বসত ভিটে থেকে জায়গা জমি। কাজ হারিয়ে ভিন রাজ্যে কাজের সন্ধানে পাড়ি দিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকের জীবন স্বেচ্ছায় বরণ করতে হচ্ছে সুন্দরবনের ভুমিপুত্রদের।
তবে জলে জঙ্গলে বাস, বিপদ বারো মাস-এই আপ্তবাক্যকে মেনে নিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করার মানসিকতা মনোবল নিয়ে যারা আজও সুন্দরবনের বিভিন্ন দ্বীপে মাটি আঁকড়ে পড়ে থাকে তাদের মধ্যে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মোকাবিলা সমস্যার সমাধান, আশু সংকল্প ইত্যাদি বিষয়ে সহজ ও প্রাঞ্জলভাবে জলবায়ু পরিবর্তনে সুন্দরবনের প্রভাব ও জলবায়ু শিক্ষার প্রসার ও বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত শিক্ষামূলক এক সেমিনারের আয়োজন করা হয় শঙ্খচিল দৈনিক সংবাদপত্রের ব্যবস্থাপনায় রেম্যাক্স ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ,অশোক তপতী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট এর সৌজন্যে সুন্দরবনের পাথরপ্রতিমার অন্তর্গত শ্রী নারায়নপুর পদ্মের খাল মোড় সংলগ্ন অসুখ বিমল স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
এদিনের এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন ভারত সরকারের নীতি আয়োগ কমিটির অন্যতম সদস্য ,IPCC এর Climate Change and Cities বিষয়ক Expart Reviewer ও বিপর্যয় মোকাবিলা বিশেষজ্ঞ তথা আন্তর্জাতিকমানের জলবায়ু গবেষক ও সাংবাদিক সৌভিক চোঙদার । তার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন কানাডায় গবেষণারত প্রবাসী বাঙালি কৃষি তথা পরিবেশ বিজ্ঞানী ডক্টর সৈকত কুমার বসু ।
উপস্থিত ছিলেন না রেম্যাক্স ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট এর কর্ণধার বিশ্ব রঞ্জন চৌধুরী অশোক তপতি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের কর্ণধার অঞ্জন দে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান বিকাশ রঞ্জন প্রতি সহ বিভিন্ন স্কুলের বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকমন্ডলী এছাড়াও শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকগণ ।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বন্দেমাতরম সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় এরপর একে একে অতিথিবরং তারপর সর্বপল্লী ডক্টর রাধাকৃষ্ণণ এর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ নিবেদন করেন আগত অতিথিবৃন্দরা। ৫ ই সেপ্টেম্বর জাতীয় শিক্ষক দিবসের দিন স্থানীয় স্কুলের শিক্ষকদেরকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি তাদের হাত দিয়ে স্কুল প্রাঙ্গণে বেশ কয়েকটি গাছের চারা রোপন করা হয়। এরপরেই আন্তর্জাতিক জলবায়ু গবেষক সাংবাদিক ও নীতি আয়োগ কমিটির অন্যতম সদস্য সৌভিক চোঙদার জলবায়ু শিক্ষার প্রসার নিয়ে তাঁর এক ও অদ্বিতীয় আবিষ্কৃত মডেল উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের, অভিভাবকদের ও সামনে সহজ ও প্রাঞ্জলভাবে উপস্থাপন করেন ।
মজার চলে ছোট্ট বন্ধুদের কে বুঝিয়ে দেন সুন্দরবনের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়প্রবণ এলাকায় কিভাবে ছোট্ট বন্ধুরা এক একজন সমাজ সচেতক বা জলবায়ু ও পরিবেশ সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতে পারে তা তুলে ধরেন । যা ছিল উপস্থিত সকলের কাছে বেশ উপভোগ্য । সুদূর অস্ট্রেলিয়া তে দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃতি পরিবেশ ও কৃষি নিয়ে কাজ করা প্রবাসী বাঙালি বিজ্ঞানী ডঃ সৈকত কুমার বসু তাঁর বক্তব্যের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের সুন্দরবনের কৃষিতে কি প্রভাব পড়ছে এবং প্রান্তিক এলাকার ছেলেমেয়েদের মধ্যে শিক্ষাগত গুরুত্ব কতটা, বিশেষ করে নারী শিক্ষায় প্রসারে জোর দেবার কথা বলেন তিনি।
প্রথম পর্বের অনুষ্ঠানে শেষে স্থানীয় মা সারদা টিউটোরিয়াল কোচিং সেন্টারের ছাত্রছাত্রীরা আগত অতিথি ও শিক্ষকদেরকে সম্মাননা জ্ঞাপন করেন শঙ্খচিল পত্রিকার পক্ষ থেকে অতিথিদের হাতে মানপত্র তুলে দেওয়া হয়। সবশেষে স্থানীয় স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা পরিবেশন করে। আগামী দিনের সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে প্রকৃতি শিক্ষার পাঠ ও জলবায়ু শিক্ষার প্রসারের যে মডেল আবিষ্কার করেছেন তা ব্যাপকভাবে প্রচার করা হবে বলে জানান আন্তর্জাতিক জলবায়ু গবেষক,বিপর্যয় মোকাবিলা বিশেষজ্ঞ তথা শঙ্খচিল সংবাদপত্রের মুখ্য সম্পাদক সৌভিক চোঙদার। সবশেষে রেম্যাক্স ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ও অশোক তপতী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের দুই কর্ণধার বিশ্বরঞ্জন চৌধুরী ও অঞ্জন দে উভয়ের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।
Comments
Post a Comment