"কৃষি পর্যটন মেলা: প্রকৃতির পান্থশালা"শীর্ষক একদিনের কৃষি মেলা হয়ে গেল ঝাড়গ্রামে।
কৃষি পর্যটন মেলা: প্রকৃতির পান্থশালা
ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়ায় সমন্বিত কৃষি ও এগ্রো-ট্যুরিজমের নব দিগন্ত: অনুষ্ঠিত হলো কৃষি পর্যটন মেলা: প্রকৃতির পান্থশালা
ঝাড়গ্রাম: গ্রামীণ অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব বিকাশ এবং কৃষিভিত্তিক পর্যটনের অসীম সম্ভাবনাকে পাথেয় করে ঝাড়গ্রাম জেলার মানিকপাড়ায় গত ৬ আগস্ট সফলভাবে আয়োজিত হলো ‘কৃষি পর্যটন মেলা: প্রকৃতির পান্থশালা’। কৃষি, প্রাণীসম্পদ বিকাশ এবং টেকসই এগ্রো-ট্যুরিজমের এক অপূর্ব সমন্বয়ে গ্রামীণ জীবনযাত্রায় নতুন আর্থ-সামাজিক গতি সঞ্চার করাই ছিল এই বিশেষ কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য। সমগ্র অনুষ্ঠানটির দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সুনিপুণ পরিচালনায় ছিলেন ‘সামেতি’ (SAMETI), পশ্চিমবঙ্গ-এর ডিরেক্টর ড. সৌরেন্দ্রনাথ দাস।
দ্রুত নগরায়ণ ও ব্যস্ত নগরজীবনের যান্ত্রিকতা পেরিয়ে আধুনিক মানুষকে আবার প্রকৃতির সুনিবিড় কোলে ফিরিয়ে আনার এক অনন্য আশ্রয়স্থল বা পান্থশালা হয়ে উঠেছে এই উদ্যোগ। এই ‘প্রকৃতির পান্থশালা’-র মাধ্যমে দর্শনার্থী ও পর্যটকদের সামনে খুলে যাচ্ছে গ্রামীণ জীবনকে কাছ থেকে স্পর্শ করার বিরল সুযোগ। হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালন, বৈজ্ঞানিক উপায়ে মৌমাছি চাষ, পুকুরে মাছ ধরা, বৃক্ষরোপণ কিংবা বাগান থেকে তাজা ফল সংগ্রহের মতো বৈচিত্র্যময় কর্মকাণ্ডে পর্যটকরা সরাসরি অংশ নিতে পারবেন। এই সান্নিধ্য একদিকে যেমন শিশুদের মানসিক বিকাশ ও পরিবেশমনস্কতা গড়ে তুলবে, অন্যদিকে শহুরে মানুষকে দেবে মানসিক প্রশান্তি ও সতেজতা।
অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ও নীতি-নির্ধারক মহল থেকে শুরু করে শিক্ষাবিদদের এক উজ্জ্বল উপস্থিতি দেখা যায়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির তাৎপর্য তুলে ধরেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাননীয় প্রাণীসম্পদ বিকাশ মন্ত্রী রাজেশ মাহাত, এবং বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অশোক কুমার পাত্র। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন EEI গুয়াহাটির ডিরেক্টর ড. রাজুমনি বরদোলুই, ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষীকান্ত সাহু এবং ঝাড়গ্রাম আর্ট একাডেমির প্রিন্সিপাল সঞ্জীব মিত্র সহ বহু গুণীজন, অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন রানা প্রতাপ চট্টরাজও সঞ্চালনায় ছিলেন সৌম্যেশ মন্ডল।
বক্তারা ঐকমত্য পোষণ করেন যে, এগ্রো-ট্যুরিজম কেবল ক্ষণিকের বিনোদন নয়; বরং এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে সুদৃঢ় করা, কৃষকদের ঐতিহ্যগত চাষবাসের পাশাপাশি বিকল্প আয়ের পথ সুগম করা এবং স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থান তৈরির এক সুদূরপ্রসারী মাধ্যম। প্রশাসনিক নীতি, সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ (PPP) এবং স্থানীয় কৃষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই বাংলায় এগ্রো-ট্যুরিজম ও কৃষিকেন্দ্রিক পর্যটনের এই সম্ভাবনাময় মডেল এক নতুন রূপ পরিগ্রহ করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
Comments
Post a Comment