প্রতি ফোঁটায় অধিক ফসল' কৃষিক্ষেত্রে জলের সঠিক ব্যবহারে কেন্দ্রিয় উদ্যোগ
লাবনী মান্নাঃ
'পার ড্রপ মোর ক্রপ' (PDMC) প্রকল্প ক্ষুদ্র স্তরে সেচকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে জলের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করছে। এ বছর জুলাই মাস পর্যন্ত এই প্রকল্পের অধীনে ১১৫ লক্ষ হেক্টরেরও বেশি জমি সেচের আওতায় এসেছে। সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর এবং ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে কৃষকদের সাশ্রয়ী সেচ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।'পার ড্রপ মোর ক্রপ' বা 'প্রতি ফোঁটায় অধিক ফসল' (PDMC)-এর মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থার কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি হয়েছে। ভারতের ৮০%-এর বেশি জল সেচে ব্যবহৃত হলেও মোট চাষযোগ্য জমির প্রায় ৫০%-এ সেচের সুবিধা রয়েছে। তাই সেচের পরিধি বাড়ানো একটি জাতীয় অগ্রাধিকার। ক্ষুদ্র স্তরে সেচ ব্যবস্থার পরিধি বৃদ্ধির মাধ্যমে জলের অপচয় কমানো সম্ভবপর হয়। কেন্দ্র সরকারের এই প্রকল্পে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ৫৫% এবং অন্যান্য কৃষকদের ৪৫% আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। বিগত ৩ বছরে ৮,১২৩.২৪ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়েছে।এই উদ্যোগটি ২০০৬ সালে একটি কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত প্রকল্প হিসাবে শুরু হয়, যা পরবর্তীকালে ২০১০-১১ সালে 'ন্যাশনাল মিশন অন মাইক্রো ইরিগেশন'-এ উন্নীত করা হয়। ২০১৫-১৬ থেকে ২০২১-২২ পর্যন্ত এটি PMKSY-এর অধীনে এবং ২০২২-২৩ থেকে 'প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনা' (PM-RKVY)-র অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।২০০৭-০৮ সালে চালু হওয়া এই পরিকল্পনাটিকে ২০২৪ সালের অক্টোবরে পুনর্গঠন করে নয়টি ভিন্ন প্রকল্পকে যুক্ত করা হয়। এতে রাজ্যগুলিকে স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী তহবিল বণ্টনের নমনীয়তা দেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ সালে PM-RKVY-র জন্য বরাদ্দ ৮,৯৫৭.৭২ কোটি টাকার মধ্যে ৩,২২৬.৩৬ কোটি টাকা বিশেষভাবে PDMC প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত রাখা হয়েছে।পিডিএমসি কৌশলগত অগ্রাধিকার ক্ষেত্র । এই প্রকল্প ক্রপ প্রোডাক্টিভিটি বা ফসশ উৎপাদনশীলতা বাড়াতে জলের সঠিক ব্যবহারকে উৎসাহিত করে। এছাড়া নলকূপ, নদী থেকে জল তোলার ব্যবস্থা ও সৌরচালিত সেচের সাথে ক্ষুদ্র-সেচের সমন্বয় ঘটায়।ক্ষুদ্র-সেচ প্রক্রিয়ায় সরাসরি গাছের শিকড়ে জল পৌঁছে দেওয়ার ফলে জল, বিদ্যুৎ, সার ও শ্রমের খরচ কমে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। এটি উদ্যানপালন ও অনাবাদি জমিকে চাষযোগ্য করে তুলতে সহায়ক হয়।ভারতে ক্ষুদ্র-সেচ সম্প্রসারণের অগ্রগতিও উল্লেখযোগ্য।এ বছর জুলাই মাস পর্যন্ত এটি ভারতের মোট চাষযোগ্য জমির ৮.১১% এলাকায় প্রসারিত হয়েছে। ২০২৫-২৬ সালে মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, গুজরাট এবং রাজস্থানে সর্বোচ্চ এলাকা আওতাভুক্ত করা হয়েছে এবং ১২.৩০ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ২০% নারী।রয়েছে ড্রিপ ইরিগেশনও। যেমন,অন্ধ্রপ্রদেশের পালনাডুর কৃষক এলএএম শ্রীনিবাস রাও তাঁর দুই একর লেবু বাগানে ড্রিপ ইরিগেশন গ্রহণ করে একর প্রতি উৎপাদন ৯০ থেকে বাড়িয়ে ১০৫ কুইন্টাল করেছেন। চাষের খরচ কমেছে এবং তাঁর আয় ১.৫ লক্ষ টাকা থেকে বেড়ে ২.৮৫ লক্ষ্য টাকায় পৌঁছেছে।কৃষকদের সুবিধার্থে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী ডিগি (বড় জলের ট্যাংক) ও জল সংরক্ষণ কাঠামো তৈরির স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে এবং আগের খরচের সীমা বা ফান্ডিং বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে।PDMC-র অধীনে অতিক্ষুদ্র-সেচ ব্যবস্থার ধরন১. *ড্রিপ সেচ ব্যবস্থা:** অন-লাইন ড্রিপ সেচ:* পাইপের সঙ্গে আলাদা ড্রিপার যুক্ত থাকে, যা অসম ব্যবধানের ফসলের জন্য উপযুক্ত।* *ইন-লাইন ড্রিপ সেচ:* পাইপের ভেতরে নির্দিষ্ট দূরত্বে ড্রিপার তৈরি থাকে, যা সমানভাবে সব জল দেয়।২. *স্প্রিঙ্কলার সেচ ব্যবস্থা:** *পোর্টেবল স্প্রিঙ্কলার:* সহজে স্থানান্তরযোগ্য।* *মাইক্রো স্প্রিঙ্কলার:* শাকসবজি ও নার্সারির জন্য উপযুক্ত।* *মিনি স্প্রিঙ্কলার:* চীনাবাদাম, আলু, পেঁয়াজের মতো ফসলের জন্য ব্যবহৃত হয়।* *সেমি-পারমানেন্ট স্প্রিঙ্কলার:* প্রধান পাইপ মাটির নিচে থাকে।* *লার্জ ভলিউম স্প্রিঙ্কলার (রেইন-গান):* বড় এলাকায় দ্রুত সেচের জন্য উচ্চ চাপে কাজ করে।
Comments
Post a Comment