আগাছানাশক সহনশীল ধান চাষ ও বীজ উৎপাদন বিষয়ক বিশেষ কর্মশালা শস্য শ্যামলা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে ।
সুব্রত চক্রবর্তী: শঙ্খচিল:
সোনারপুর
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির হাত ধরে আমরা ক্রমে এগিয়ে চলেছি বিকশিত ভারতের দিকে। বিকশিত ভারত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কৃষি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর এই কৃষি সঙ্গে জড়িত যে সমস্ত কৃষক বন্ধুরা কৃষি কাজ করেন সেক্ষেত্রে তাদের অন্যতম মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় আগাছা এবং জলবায়ু পরিবর্তনশীল সহনশীল জাতের বীজ সংগ্রহ এবং চাষ করা ।তাই কিভাবে কম খরচে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিতে কৃষক বন্ধুরা জমি থেকে আগাছা নির্মূল করতে পারেন এবং জলবায়ু পরিবর্তনশীল সহনশীল উন্নত জাত বীজ সংগ্রহ এবং সর্বোপরি বীজ উৎপাদনের করে কৃষক বন্ধুদের আয় দ্বিগুন করতে পারেন বা আর্থিক ভাবে স্বচ্ছলতা আনতে পারেন সে বিষয়ে ২৯শে আগস্ট সোনারপুর আড়াপাঁচে অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ এডুকেশনাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউশন (RKMVERI)-এর শস্য শ্যামলা কৃষি বিজ্ঞান (SSKVK)কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনায় আইসিএআর- কেন্দ্রীয় ধান গবেষণা সংস্থা (সিআরআরআই) কটক,ওড়িশা-র সহযোগিতায় আগাছা নাশক সহনশীল ধান চাষ ও বীজ উৎপাদন প্রশিক্ষণের উপর এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়।
এই দিনের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইসিএআর আটারি কলকাতার ₹জোন -৫) ডিরেক্টর তথা আইসিএআর কেন্দ্রীয় অন্তস্থলীয় মৎস্য গবেষণা সংস্থার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান ডক্টর প্রদীপ কুমার দে । এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ এডুকেশনাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট শ্যামলা কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের মঙ্ক ইনচার্জ পূজনীয় ব্রহ্মচারী সৌমিত্র মহারাজ। তাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ICAR-CRRI এর
সিনিয়র সাইন্টিস্ট (জেনেটিক্স এন্ড প্লান্ট ব্রিডিং)
ডঃ মৃদুল চক্রবর্তী , ডক্টর তড়িৎ বরুন বাগচি সিনিয়র সাইন্টিস্ট (প্লান্ট বায়োকেমিস্ট ) ডক্টর অবধেশ কুমার ,(সাইন্টিস্ট ল্যান্ড বায়ো কেমিস্ট) সহ শস্য শ্যামলা কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের বিজ্ঞানীগণ।
প্রদীপ প্রজ্জলন ও জাতীয় সংগীত, বন্দেমাতরম পরিবেশন এর মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এরপর শস্য শ্যামলা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে বরিষ্ঠ বিজ্ঞানী তথা প্রধান ডঃ স্বাগত ঘোষ উপস্থিত অতিথি এবং কৃষকদেরকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি কৃষি ক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তি কার্যকর ভাবে কৃষকদের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানী ও কৃষকদের মধ্যে সরাসরি সমন্বয় সাধনের উপর আলোকপাত করেন । এই দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তথা মুখ্য বক্তা ডক্টর প্রদীপ কুমার দে কৃষক বন্ধুদের উদ্দেশ্যে জানান আগাছা সহনশীল ধান প্রযুক্তির গুরুত্ব ,ধানের উন্নত বীজ উৎপাদন এবং আগাছা নিয়ন্ত্রণে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে। তিনি সুপারিশকৃত কৃষি প্রযুক্তি অনুমোদন করে বিজ্ঞানসম্মত ও বিচক্ষণসম্মত এই প্রযুক্তি গ্রহণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
এরপর কারিগরি অধিবেশনে ডক্টর মৃদুল চক্রবর্তী আগাছানাশক সহনশীল ধান প্রযুক্তি এবং ICAR -CRRI উদ্ভাবিত আগাছা নাশক সহনশীল ধানের উন্নত জাত গুলির বৈশিষ্ট্য ও ফলনের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন । তিনি বীজ বপন, আগাছা নির্ণয়ন ,আগাছা নাশকের ব্যবহার পদ্ধতির সময় সম্পর্কে উপস্থিত কৃষক বন্ধুদের অবহিত করেন। এই দিনের অনুষ্ঠানে মূল পর্বের পর কৃষক বিজ্ঞানীদের মধ্যে সরাসরি প্রশ্নোত্তর ও মত বিনিময়ের পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ।যেখানে কৃষক বন্ধুরা কৃষি কাজে বিশেষত ধান চাষ করতে গিয়ে আগাছা কিভাবে তাদেরকে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং তার নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে কি কি বাধার সম্মুখীন হতে হয় তা তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা বিজ্ঞানীদের মধ্যে ভাগ করে নেন। কৃষি বিজ্ঞানীরা তাদের প্রশ্নের যথাযথ উত্তর ও সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণ বিধি সম্পর্কে কারিগরি পরামর্শ দেন । এ দিনের এই অনুষ্ঠানে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী,গোসবা,ভাঙ্গড় ব্লক থেকে ৮২ জন তপশিলি জাতিভুক্ত কৃষক বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন।
আগাছানাশক সহনশীল ধান প্রযুক্তি, বিজ্ঞানসম্মত আগাছা ব্যবস্থাপনা এবং গুণমান সম্পন্ন ধান বীজ উৎপাদন সম্পর্কে কৃষক বন্ধুদেরকে সচেতন করা ও দক্ষ করে তোলাই ছিল এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য । সমগ্র অনুষ্ঠানের সমন্বয় সাধন করেন শস্য শ্যামলা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বিষয়বস্তু বিশেষজ্ঞ উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের বিজ্ঞানী ডক্টর সুদেষ্ণা পাঁজা। সবশেষে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের শস্য তথ্য বিভাগের বিষয়বস্তু বিশেষজ্ঞ ডক্টর কৃষ্ণেন্দু রায়ের ধন্যবাদ জ্ঞাপনে মধ্য দিয়ে এ দিনের অনুষ্ঠানের শুভ সমাপ্তি ঘটে।
Comments
Post a Comment